পাকুন্দিয়ায় আওয়ামী লীগে ছড়িয়েছে 'হানাহানির ভাইরাস'

by

করোনাকালে আরেক ‘ভাইরাসের’ উপদ্রপ শুরু হয়েছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দাঙ্গা-হাঙ্গামার এ ‘ভাইরাস’ দিচ্ছে উপজেলাজুড়ে। তাদের উপদ্রপে বিরক্ত এলাকাবাসী। যখন করোনা দুর্গতদের পাশে থেকে সাহস জোগানোর কথা, তখন নেতাকর্মীদের দায়িত্বহীনতা অবাক করেছে স্থানীয়দের। গত ১৫-২০ দিন ধরে থেমে থেমে চলছে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, হামলা ও শক্তি দেখানোর মহড়া। স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধীদের বিরোধ সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে চলে আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনকে নিয়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তাকে উপজেলা ত্রাণ কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেন। কিন্তু ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ১৩ মে ত্রাণ কমিটি থেকে তিনি পদত্যাগ করে বসেন। এতে এমপি নূর মোহাম্মদ তার (স্বাপন) প্রতি রুষ্ট হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এর জবাব চান সংসদ সদস্য। পদত্যাগকারী আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন ফেসবুকে এমপির প্রতিক্রিয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। এসব নিয়ে পাকুন্দিয়ায় উত্তপ্ত অবস্থা তৈরি হয়।

এর জের ধরে গত ১৬ মে এমপিপক্ষের লোকজন স্বপনের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। এরপর দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনু। তিনি উপজেলার উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে দুইবার লাইভে গিয়ে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি কিছু কিছু বিষয়ে এমপির সমালোচনা করেন। এর পর থেকে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে চলতে থাকে ঠাণ্ডাযুদ্ধ। বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এ দুজন।

এর জের ধরে আজ বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা শ্রমিক লীগ সংসদ সদস্যের পক্ষ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। তারা এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনুর বিরুদ্ধে নানা ধরণের ‘অবমাননাকর’ শ্লোগান দেয়। মিছিলটি পাকুন্দিয়া সদরের বিভন্ন সড়ক ঘুরে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতিকুল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ, আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল কবীর, মুছলেহ উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আসাদ মিয়া, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শরিফুজ্জামান বকুল, আমজাদ হোসেন সবুজ, বিল্লাল হোসেন পাপ্পু, আব্দুল জব্বার সুমন প্রমুখ।

কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনার সময়ে আওয়ামী লীগে যা চলছে তা নজীরবিহীন। যে সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মানুষ দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিল, সে সময়ে নিজেদের হানাহানি-হাঙ্গামায় বিরক্ত হচ্ছে লোকজন। যেভাবে মহড়া, পাল্টা মহড়া চলছে, সভা-সমাবেশ চলছে, তাতে করোনা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। যা মোটেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ ছিল না। তার লোক (স্বাপন) কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে হাঙ্গামা হয়েছে, মারামারি হয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে আমাকে অহেতুক দায়ি করা হচ্ছে। তিনি প্রতিনিয়ত উপজেলা চেয়ারম্যানের অধিকার খর্ব করে চলেছেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

স্থানীয়রা বলছেন, এ বিরোধে উপজেলা চেয়ারম্যান জড়িয়ে পড়ায় পাকুন্দিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। যে কোনো সময় সেখানে বড় ধরণের দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়ে যেতে পারে।