https://paloimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/1600x0x0/uploads/media/2019/03/25/7966301584407a108391e3afbf6a5253-5c9864c2b0916.jpg?jadewits_media_id=1426174

আরও ২ হাজার চিকিৎসক নেওয়ার পরিকল্পনা

by

করোনাভাইরাসে চিকিৎসার গতি আরও বাড়াতে দ্রুত আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি হলে করোনায় আরও ২ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ পাবেন। এতে করোনার কারণে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন ৪ হাজার চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি আছে। তাঁরা এ জন্য কাজ শুরু করেছেন। ৩৯তম বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেই এসব চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়াকেই সহজ সমাধান বলে মনে করছে সরকার।

সর্বশেষ এ মাসে নতুন ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয় সরকার। গত ১২ মে ওই চিকিৎসকেরা দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগ দেন। তাদের জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগে সরকার বিশেষ চাহিদাপত্র দেয় সরকারি কর্মকমিশনকে (পিএসসি)। ওই চাহিদা অনুসারে পিএসসি বিশেষ সভা করে ৩৯তম বিসিএসের নন ক্যাডারের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ২ হাজার সহকারী সার্জন নিয়োগ দেয়। পরে দ্রুতই তাঁদের নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে প্রজ্ঞাপন দেয় জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়।
করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চিকিৎসক সংকটের কারণে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনায় মৃত্য ও আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মধ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকেরা অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবেলের জন্য নতুন আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের কথা অনেটাই চূড়ান্ত করছে সরকার।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত দেশের প্রায় হাজারেরও বেশি চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই সরকারি হাসপাতালে কর্মরত।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আলোকে বলেন, নতুভাবে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে গেলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, কয়েকদফা পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে। যা সময় সাপেক্ষ। সেই অবস্থাও এখন নেই। দেশে এখন চিকিৎসক সংকট। এই বিশেষ সংকটের সময় জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

পিএসসি জানায়, ২০১৮ সালে ১০ এপ্রিল ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়, শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। পরে ওই বছরের ৩ আগস্ট এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, এতে ৩৭ হাজার ৫৮৩ জন অংশ নেন। পরীক্ষায় পাস করেন মোট ১৩ হাজার ৭৫০ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে সহকারী সার্জন পদে ১৩ হাজার ২১৯ চিকিৎসক ও ৫৩১ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে উত্তীর্ণ হন। এখানে আট হাজারের বেশ চিকিৎসক অপেক্ষমান তালিকায় থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুত গতিতে নতুন ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেয়েছেন তাঁরা। এটি নিয়ে কাজ করছেন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, আমরা আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের কাজ করতে চাই। এতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি আছে। এখন ৩৯তমে বিশেষ বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেই এই নতুন ২ হাজার নিযোগ দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে সরকার। আমরা কিছু আনুষ্ঠানিকতার কাজ করছি। পদ তৈরি করা, নতুন চিকিৎসকের বেতন দেওয়া এসবের জন্য অর্থ ও জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয় এবং পিএসসির কিছু কাজ আছে। এসব কাজ দ্রুত সময়ে করা হচ্ছে। শিগগিরই তাঁদের নিয়োগ করা হবে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রচুর স্বাস্থ্যকর্মী দরকার বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই কাজটা মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পিএসসি করবে। তাঁদের কাছে এ সংক্রান্ত অনুমতি চাওয়া হলে তারা এটি দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা নেবেন।

৩৯ বিশেষ বিসিএস থেকে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রস্তাব করেছিল চিকিৎসকদর সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যসোসিয়েশন (বিএমএ)। সংগঠনটির মহাসচিব ইহতেশামুল হক চৌধুরী সম্পতি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছে। তিনি জানান, ৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে মেধার ভিত্তিতে চিকিৎসক নেওয়া যেতে পারে। তাঁদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সহজ বলে মনে করেন তিনি।

৩৯তম বিশেষ বিসিএসে পাশ করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা চিকিৎসক রাফা বিনতে নূর বলেন, আমরা ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে পাশ করেছি। দেশের এই পরিস্থিতিতে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হলে আমরা দেশের জন্য কাজ করতে পারব। অন্য চিকিৎসকদের ওপর চাপ কমে আসবে ও মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হবে না। এ ছাড়া আমাদের কর্ম সংস্থান হলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে।