https://paloimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/1600x0x0/uploads/media/2020/05/25/d46d2157bfbe4e81039dbdc3c9a43f1d-5ecb4b461e843.jpg
২০০৩ সালের ঈদুল ফিতরের দিন তাজিকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি খেলেছিলেন এঁরাই। ছবি: সংগৃহীত

'ঈদের জামাতের পর মাথায় ছিল তাজিকিস্তানই'

by

১৭ বছর আগে সে দিনটিও ছিল ঈদুল ফিতরের। আনন্দ–উচ্ছলতায় মেতে ছিল মানুষ। ঘরে ঘরে ফিরনি–সেমাই, আর পোলাও–মাংসের ধুম। আর সে দিনটিতেই কিনা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত আমিনুল হক–রজনী কান্ত বর্মণ, আলফাজ আহমেদরা! ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে ঈদের দিন তাজিকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামতে হয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবলারদের।

পেশাদারত্বের এ যুগে ঈদের দিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খুব বিরল ঘটনা নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এ অভিজ্ঞতা আছে। গত বছরই তো ঈদুল ফিতরের দিন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। গত বছরই ঈদের দিনে জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপের প্রাক–বাছাই খেলতে লাওসের ভিয়েনতিয়েনে ছিল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঈদের পর দিন। তবে দেশের মাটিতে ঈদের দিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ, এ দেশের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত ২০০৩ সালেই সবশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হকের স্মৃতিতে সে দিনটি এখনো স্পষ্ট, 'ঈদের দিন ম্যাচটা খেলেছিলাম তাজিকিস্তানের বিপক্ষে। হেরেছিলাম ২–০ গোলে। ঈদের সময় খেলার জন্য বিদেশে থাকার ঘটনা ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবারই ঘটেছে। কিন্তু দেশের মাটিতে ঈদের দিন ম্যাচ সেবারই খেলেছি। অন্যরকম একটা অনুভূতি ছিল। তবে দেশের জার্সিতে, দেশের জন্য খেলছি, এই ভাবনাটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছিল। মনে আছে, ম্যাচটা বিকেলে খেলে রাতেই আমরা অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে তাজিকিস্তান রওনা হয়েছিলাম।

সে ঈদে পরিবার–পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আমিনুল–আলফাজরা, 'আমরা বিকেএসপিতে ক্যাম্পে ছিলাম। ঈদুল ফিতরের দিন সকালে বিকেএসপিতেই ঈদের নামাজ পড়েছি। বিকেএসপি থেকেই বাসে সরাসরি মাঠে গিয়েছি। মানে ঈদের জামাতের পর থেকেই মাথায় ছিল তাজিকস্তান। পরিবারের সঙ্গে টুকটাক ফোনে কথা হয়েছিল। আসলে আমাদের সবার পরিবারের লোকজনই এসব ব্যাপারে অভ্যস্ত ছিল। ঈদের চেয়েও দেশের দায়িত্ব বড়, এটাও তাঁরাও জানত। আর, আমরা দলের সবাই বন্ধু ছিলাম। ব্যক্তিগত পর্যায়ের সম্পর্কটা এত ভালো ছিল যে ঈদে বাড়িতে নেই, সে অনুভূতিটা মনেই আসেনি।'

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তখন ফুটবল হতো। খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানেই। ডিসেম্বরের বিকেলে মিঠে–কড়া রোদে মাঠে দর্শকের সংখ্যাও কম ছিল না। দর্শকেরাও একটা নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন সেদিন। তবে ২–০ গোলে দেশ হেরে যাওয়াতে ঈদের দিন নিশ্চয়ই মন কিছুটা খারাপ হয়েছিল সবার। দুশানবেতে ফিরতি ম্যাচেও বাংলাদেশ হারে ২–০ গোলে।

সে যা–ই হোক, ঈদের দিন দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ, আমিনুল–আলফাজদের জন্যও দারুণ এক স্মৃতিই!