https://paloimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/1600x0x0/uploads/media/2020/01/31/3112aee7ab129b08fbdf6f76e4046524-5e33f8524173f.jpg
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে বাজারে ব্যাপক ইলিশ আসছে। ছবি: প্রথম আলো

ইলিশে সরগরম চাঁদপুরের বাজার

by

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে মাছের বাজারগুলোতে ব্যাপক হারে আসছে ইলিশ। বেশির ভাগ ইলিশই বড় ও মাঝারি। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় শীত উপেক্ষা করেও ক্রেতারা বাজারে এসে চাহিদা অনুসারে ইলিশ কিনছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্থানীয় মাছবাজারগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম-হইচইয়ে বাজার সরগরম।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার কর্মসূচি সফল হওয়ায় অসময়েও মেঘনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

গত বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদর বাজার, বরদিয়া আড়ং, মুন্সীরহাট, নারায়ণপুর ও মাছুয়াখাল এবং মতলব উত্তর উপজেলার এনায়েতনগর, সুজাতপুর, আমিরাবাজ, মোহনপুর, এখলাশপুর ও ছেংগারচর মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, সেখানে বড় ও মাঝারি আকারের ইলিশের ছড়াছড়ি। দাম কিছুটা কম হওয়ায় প্রচণ্ড শীতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদর বাজারের মাছবিক্রেতা ধুপ দাস ও বিমল চন্দ্র দাস এবং মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারের মাছবিক্রেতা পবিত্র ও প্রিয়লাল দাস প্রথম আলোকে বলেন, অন্যান্য বছরগুলোয় শীতের সময় এভাবে বাজারে ইলিশ আসেনি। এবার এর ব্যতিক্রম। এবার প্রচণ্ড শীতেও বাজারে ব্যাপক ইলিশ আসছে। এগুলোর বেশির ভাগই বড় ও মাঝারি। ছোট ইলিশ আসছে না তেমন। দাম কিছুটা কম ও সহনীয় পর্যায়ে থাকায় সব শ্রেণির ক্রেতাই কম-বেশি ইলিশ কিনে নিচ্ছেন।

দুই মাছ বিক্রেতা বলেন, সচ্ছল ক্রেতাদের অনেকেই তিন-চার কেজি থেকে ১০-১২ কেজি পর্যন্ত ইলিশ কিনছেন। একেকটি বাজারে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচ মণ করে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ভরা মৌসুমেও এত ইলিশ বিক্রি হয় না সাধারণত। এখানকার বাজারে আসা বেশির ভাগ ইলিশই স্থানীয় মেঘনা নদীর। কিছু ইলিশ আসছে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও বরগুনা থেকে।

মাছ বিক্রেতারা জানান, গত ২০-২৫ দিন ধরে এক কেজি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকায়, ৮-৯ শ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৬৫০-৭০০ টাকায়, ৬-৭ শ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৬০০-৬৫০ টাকায় এবং ৫-৬ শ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোনো কোনো দিন ক্রেতাদের উপস্থিতি এবং ইলিশের পরিমাণের ওপর এ দামের কিছুটা রকমফের হয়ে থাকে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার কলাদী এলাকার বাসিন্দা শাহিনা আক্তার এবং নব কলস এলাকার মো. জুয়েল মিয়া বলেন, শীতের মধ্যেও এত ইলিশ বাজারে উঠছে দেখে তাঁরা অবাক। দাম মোটামুটি ভালো হওয়ায় বড় ইলিশ কিনেছেন। এসব ইলিশ খেতেও খুব স্বাদ লাগছে। তবে ডিমওয়ালা ইলিশে স্বাদ কম।

এই সময়ে এত ব্যাপক হারে ইলিশ পাওয়া যাওয়ার পেছনে জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার কর্মসূচির সফলতার কথাই বললেন মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার। তাঁরা বলেন, এবার জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার কর্মসূচি সফল হওয়ায় অসময়েও মেঘনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ক্রেতারাও কম দামে ইলিশ কিনে খেতে পারছেন।